Date and Time June 25, 2017 1:02 am   বাংলাদেশ সময়
For showing Bangla
bd24live.com logo
Latest News

হাবের দুর্নীতি: শুধু স্বাক্ষরের দাম পৌনে ৩ কোটি টাকা!

Fiji Visa exempted for Bangladeshi

»
April 10, 2016 at 12:50 pm

প্যাকেজ মূল্য জমা দিয়ে হজ আইডি গ্রহণ নিয়ে বিভ্রান্তি


Download PDF

প্যাকেজ মূল্য জমা দিয়ে হজ আইডি গ্রহণ নিয়ে বিভ্রান্তি

প্যাকেজ মূল্য জমা দিয়ে হজ

প্যাকেজ মূল্য জমা দিয়ে হজ

Document1 1-2

বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের সর্বনি¤œ প্যাকেজ মূল্য জমা দিয়ে প্রিলগ্রিম আইডি গ্রহণ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে নির্ধারিত কোটা সংখ্যক হজযাত্রীর প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ব্যাংকে মোয়াল্লেম ফি জমা দিতে হয়েছে। বলা হয়েছে, সরকার ঘোষিত সর্বনি¤œ প্যাকেজ মূল্যের বাকি টাকা জমা দিলেই কেবল প্রিলগ্রিম বা হজ আইডি দেয়া হবে। আর যারা প্রিলগ্রিম আইডি পাবেন তারাই কেবল হজে যেতে পারবেন। কিন্তু মোয়াল্লেম ফির টাকার বাইরে সর্বনি¤œ প্যাকেজের আরো প্রায় দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা কোথায় জমা দেয়া হবে এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা নেই। এজেন্সিগুলো এ ব্যাপারে এখনো অন্ধকারে।
জানতে চাইলে হাবের মহাসচিব শেখ আবদুল্লাহ গতকাল সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে বলেন, সরকার হজযাত্রীদের প্যাকেজ মূল্য ব্যাংকে জমার বিষয়টি নিশ্চিত করে হাবকে ছাড়পত্র দিতে বলেছে। বুধবার ধর্ম সচিবের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় হাবের নির্বাহী কমিটির সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এজেন্সিগুলো তাদের হাজীদের সর্বনি¤œ প্যাকেজ মূল্য হাবের অ্যাকাউন্টে জমা দেয়ার পরই হাব ছাড়পত্র দেবে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আগামী ১৯ এপ্রিল হাবের জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই সভায় মূলত এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে শেখ আবদুল্লাহ বলেন, এরই মধ্যেই ৪০ হাজারের বেশি হজযাত্রী অতিরিক্ত হয়ে গেছে। ফলে যাতে কোনো ভুয়া নাম তালিকায় রেখে পরে কেউ রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ না পায় সেটি এবার নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য সরকার হজযাত্রীদের পুরো টাকা জমার বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাইছে। কিন্তু হাব নিজেদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা না হলে কিভাবে টাকা জমার ব্যাপারে ছাড়পত্র দেবে, তা নিয়ে চিন্তায় আছে।
এ দিকে এজেন্সি মালিকদের অনেকে বলছেনÑ বাড়ি ভাড়া, ক্যাটারিং সার্ভিসের টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে এজেন্সিগুলোকে সৌদি আরব পাঠাতে হবে। এ ছাড়া বিমান ভাড়ার টাকাও এজেন্সিগুলোকেই পরিশোধ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকার বা হাবের অ্যাকাউন্টে এজেন্সির অধীন হাজীদের সব টাকা জমা দিলে এ টাকা পাঠানো নিয়ে নতুন ঝামেলাও সৃষ্টি হবে। এজেন্সিগুলোর অনেকে বলছেন, এজেন্সিগুলো তাদের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে তাদের নিজ নিজ হজযাত্রীদের টাকা জমার বিষয়টি নিশ্চিত করলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
এ দিকে সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন, আসলে সর্বনি¤œ প্যাকেজ মূল্য থেকে অনেক কম মূল্যে হজযাত্রী সংগ্রহ করায় অনেক এজেন্সির পক্ষে সর্বনি¤œ প্যাকেজ মূল্য সরকার বা হাবের অ্যাকাউন্টে জমা দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে অনেকে প্রাক-নিবন্ধন সত্ত্বেও হজযাত্রী পাঠাতে পারবেন না। সূত্র মতে, যেখানে সর্বনি¤œ প্যাকেজ মূল্য তিন লাখ চার হাজার ৯০৩ টাকা, সেখানে অনেক এজেন্সি সর্বনি¤œ দুই লাখ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায় পর্যন্ত হজযাত্রী নিয়েছেন। অন্য দিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বছর এ ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ করার চেষ্টা করছে। সে ক্ষেত্রে কোনো এজেন্সি পুরো টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী তালিকা থেকে হজযাত্রী পাঠানোর ব্যাপারে আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছে মন্ত্রণালয়। তবে গত বছরও হজের আগে প্যাজেক মূল্য কিস্তিতে জমার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। তবে সর্বশেষ পাওয়া অতিরিক্ত কোটার পাঁচ হাজার হজযাত্রী পাঠাতে নির্ধারিত দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা হাবের অ্যাকাউন্টে জমা নেয়া হয়েছিল। হজ-পরবর্তী সেই টাকা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে কিছু এজেন্সি। যদিও হাব নেতারা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এজেন্সিগুলোকে খরচের পর উদ্বৃত্ত হওয়া টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পাওনা টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এজেন্সি মালিক গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, হাব যেখানে গত বছর পাঁচ হাজার হজযাত্রীর টাকা জমা নিয়ে সামাল দিতে পারেনি, সেখানে ৯১ হাজার হজযাত্রীর টাকা জমা নিয়ে কিভাবে সামাল দেবে।
তবে হাবের মহাসচিব শেখ আবদুল্লাহ এ ব্যাপারে বলেন, গত বছরও পাঁচ হাজার হজযাত্রীর টাকা নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি। এবারো হাবের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হলে কোনো অনিয়মের আশঙ্কা নেই। যেহেতু এজেন্সিগুলো ব্যাংকিং চ্যানেলে খরচের টাকা সৌদি আরব পাঠাবে, সে ক্ষেত্রে হাব তাদের চাহিদানুযায়ী চেক দিয়ে দিলেই তো হবে।
এ দিকে প্রাক-নিবন্ধনকারী এজেন্সিগুলোর মধ্যে ৪০২টি এজেন্সি সর্বনি¤œ কোটা ১৫০ জন হজযাত্রীর নিবন্ধন করতে পারেনি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজবিষয়ক ওয়েবসাইটের দেয়া তথ্যানুযায়ী ১৪৬ জনের নিচে হজযাত্রীর প্রাক-নিবন্ধনকারী ৪০২টি এজেন্সির হজযাত্রী ৩৫ হাজার ৬১৯ জন। অন্য দিকে ১৪৬ জনের ঊর্ধ্বে প্রাক-নিবন্ধনকারী ২৯১টি এজেন্সির হজযাত্রীর সংখ্যা ৫২ হাজার ৫৮১ জন। সব মিলিয়ে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রী দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ১৯৭ জন। ১৫০ জনের কম হজযাত্রীর প্রাক-নিবন্ধন করেছে এমন এজেন্সিগুলোকে নিজেদের মধ্যে গ্রুপ করে একটি লিড এজেন্সির মাধ্যমে তাদের হজযাত্রী পাঠানোর তালিকা দেয়ার জন্য এরই মধ্যেই ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সৌদি সরকারের নিয়মানুযায়ী একটি এজেন্সি ১৫০ জনের নিচে হজযাত্রী পাঠাতে পারবে না।
অন্য দিকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি মিলে সর্বমোট এক লাখ ৩৪ হাজার ১৮০ জনের প্রাক-নিবন্ধন শেষ হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার এক লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ জন এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার তিন হাজার ৫১৯ জন। চলতি বছর সরকারি-বেসরকারি মিলে সর্বমোট হজযাত্রী পাঠানোর কোটা এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত হজের প্রাক-নিবন্ধন চলবে। কোটার অতিরিক্ত হজযাত্রীদের আগামী বছরের জন্য অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হবে জানানো হয়েছে।
         


বাংলাদেশ সময়: April 10, 2016 at 12:50 pm

ট্রাভেলার্স-এর সর্বশেষ ২৪ খবর

Line
 
Must See Places In Paris
Free track counters
Thanks Dear Visitor
Hajjsangbad.com