Date and Time June 25, 2017 4:31 pm   বাংলাদেশ সময়
For showing Bangla
bd24live.com logo
Latest News

হাবের দুর্নীতি: শুধু স্বাক্ষরের দাম পৌনে ৩ কোটি টাকা!

Fiji Visa exempted for Bangladeshi

»
March 9, 2016 at 11:50 am

হজের ফাইল গায়েব নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তোলপাড়


Download PDF

হজের ফাইল গায়েব নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তোলপাড়

ধর্ম মন্ত্রণালয়ে গত বছরের হজ সম্পর্কিত একটি ফাইল গায়েবের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। সৌদি সরকারের বিশেষ অনুমতিতে পাঁচ হাজার হজযাত্রীকে হজে পাঠানো সম্পর্কিত ফাইলটি রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায়। সর্বশেষ ফাইলটি তৎকালীন ধর্মসচিব চৌধুরী মো: বাবুল হাসানের কক্ষে ছিল বলে জানা যায়। তবে এখন সেটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারা কী উদ্দেশ্যে ফাইলটি গায়েব করেছে পরিষ্কার নয়। সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, হজযাত্রী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের ঘটনা আড়াল করতেই ফাইলটি গায়েব করা হয়ে থাকতে পারে। ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ করার পর তারা জবাবও দিয়েছেন। তাদের জবাবের পর এ ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখায় পাঠানো হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুল জলিল গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফাইলটির বিষয় প্রশাসন বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, ফাইল পাওয়া না গেলেও ফাইলের তথ্য অন্যান্য রেকর্ডে আছে। তারপরও ফাইল গায়েব হওয়ার বিষয়টি দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, যাদের শোকজ করা হয়েছে তাদের জবাবসহ পুরো বিষয়ে বিভাগীয় করণীয় নির্ধারণের জন্য প্রশাসন বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
তবে সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখার সময় একটি সূত্র জানিয়েছে, অবশেষে ফাইলটি খুঁজে পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বিকেলেই ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুল জলিলের হাতে ফাইলটি তুলে দেন। এ বিষয়ে জানার জন্য ভারপ্রাপ্ত সচিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার পিএস জানিয়েছেন, ফাইলটি পাওয়া গেছে। জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে জানান, ফাইলটি খুঁজে পাওয়া গেছে কিনা তিনি জানেন না।
সম্প্রতি ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান হজ সম্পর্কিত ফাইলটি তলব করলে সংশ্লিষ্টরা ফাইলটি অনেক খোঁজাখুঁজির পর বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে বিষয়টি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুল জলিলকে জানানো হয়। ফাইটি কোথায় আছে, তার তথ্য দিতে না পারায় তিনি তার দফতরের পিএস আবদুল খালেক, পিও ইমামুল হক ও আরেক কর্মকর্তা আবসারকে শোকজ করেন। গত বুধবার শোকজের জবাব দেন তিন কর্মকর্তা।
জানা যায়, তিন কর্মকর্তা শোকজের জবাবে জানিয়েছেন, সর্বশেষ সাবেক সচিব চৌধুরী বাবুল হাসানের দফতরে ছিল ফাইলটি। সচিব আগে থেকেই বিভিন্ন সময় ফাইলের গুরুত্ব অনুসারে তার ড্রয়ারে তালাবন্দী করে রাখতেন। গত বছর হজের সময় ধর্মসচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন চৌধুরী বাবুল হাসান। ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তার শেষ কর্মদিবস ছিল গত ৩১ জানুয়ারি। এরপর তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে বদলি হন।
গত বছর হজের কোটা বণ্টনের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তখন ওই অনিয়মের সাথে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জড়িত বলে অভিযোগ উঠে। কোটা বঞ্চিত হজ এজেন্সিগুলোর দাবির মুখে দুই দফায় হজযাত্রীদের তালিকা যাচাই-বাছাইও করা হয়। এরপর সৌদি সরকার অতিরিক্ত পাঁচ হাজার হজযাত্রী পাঠানোর অনুমতি দিলে সরকারি কোড ব্যবহার করে হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হাবের ব্যবস্থায় এই হজযাত্রীদের পাঠানো হয়। এ কাজে তাৎক্ষণিক হাজীদের বাড়ি ভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি জমা দেয়ার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ফান্ড থেকে ৩৩ কোটি টাকা সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ মিশনে পাঠানো হয়। কাউন্সিলর হজের মাধ্যমে হাব নেতারা বাড়িভাড়াসহ আনুষঙ্গিক কাজ সমাধান করেন। ধর্মমন্ত্রী হাবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিলে ওই কমিটির মাধ্যমেই মূলত অতিরিক্ত কোটার হাজীদের পাঠানো হয়। শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত কোটার হাজীদের পাঠানো সম্ভব হয়।
তবে এ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে হাবের একজন সাবেক সভাপতি হাজীদের বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং পাহাড়ে বাড়ি ভাড়া করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে হাজীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। অতিরক্তি কোটার হাজীদের পাঠাতে হাব হাজীপ্রতি আড়াই লাখ টাকা নেয়। তবে মক্কায় হাজীদের খাওয়ার জন্য তার থেকে ১৫ হাজার টাকা করে ফেরত দেয় হাব। যেসব এজেন্সি হাজীপ্রতি পুরো আড়াই লাখ টাকা দিয়েছিল হজের পর হাব তাদের আবারো হাজীপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে ফেরত দেয়। এ ছাড়া সরকার যে টাকা বাড়ি ভাড়ার জন্য দেয় তার থেকেও কিছু টাকা ফেরত দেয়। সবমিলিয়ে অতিরিক্ত কোটায় পাঠানো হাজীদের যাবতীয় তথ্য ছিল হারিয়ে যাওয়া ফাইলটিতে। আর এ ক্ষেত্রে অনিয়মের ঘটনা থাকার কারণেই ফাইলটি গায়েব করা হয়ে থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করছেন। এ ক্ষেত্রে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তখনকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও হাবের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ। হাবের নেতারা হাজীদের টাকা আত্মসাৎ করছেন এমন অভিযোগ ওঠে। বাড়ি ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে হাবের যে নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে আবার তিনিই হাবের বর্তমান নেতারা ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা হাজীপ্রতি খরচ হওয়া সত্ত্বেও বেশি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন মর্মে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে।
তবে হাব নেতারা অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করছেন। গতকাল সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাবের সহসভাপতি ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ফাইল গায়েবের সাথে হাবকে জড়ানোর কোনো মানেই হয় না। সেটা মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। তিনি বলেন, হাজীদের অর্থ আত্মসাতেরও কোনো প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় যে টাকা দিয়েছিল তার মধ্যে মোট ২৭ কোটি টাকা খরচ হয় মর্মে কাউন্সিলর হজ রিপোর্ট দেয়। এর মধ্যে পাঁচ হাজার হজযাত্রীর মোয়াল্লেম ফি বাবদ প্রায় ১০ কোটি টাকা সরকারি কোষাকারে আগেই জমা ছিল। ফলে সেই টাকা সমন্বয় করে বাকি ১৭ কোটি টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে পরিশোধ করে হাব। বিষয়টি এইভাবেই শেষ হয়। এখন অর্থ আত্মসাতের প্রশ্ন আসবে কেন? তিনি বলেন, কেউ হাজীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করে থাকলে সেটা ডাহা মিথ্যা। সঠিক তথ্য তাদের কাছে নেই। তিনি বলেন, এ সম্পর্কিত যাবতীয় ডকুমেন্ট হাবের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, তড়িঘড়ি করে অতিরিক্ত কোটার হজযাত্রীদের পাঠানো হয়েছে। হাজীদের কাছ থেকে নেয়া টাকার যে অংশ খরচ হয়নি তা হিসাব করে হাজীপ্রতি এজেন্সিগুলোকে ২০ হাজার টাকা করে ফেরত দেয়া হয়েছে। ফলে এখানেও কোনো রকমের অর্থ আত্মসাতের প্রশ্নই আসে না। পুরো হিসাব-নিকাশ হাবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির কাছে রয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই ওই হাজীদের পাঠানো হয়েছিল।

         


বাংলাদেশ সময়: March 9, 2016 at 11:50 am

মুক্তমত-এর সর্বশেষ ২৪ খবর

Line
 
Must See Places In Paris
Free track counters
Thanks Dear Visitor
Hajjsangbad.com