Date and Time June 25, 2017 11:19 am   বাংলাদেশ সময়
For showing Bangla
bd24live.com logo
Latest News

হাবের দুর্নীতি: শুধু স্বাক্ষরের দাম পৌনে ৩ কোটি টাকা!

Fiji Visa exempted for Bangladeshi

»
December 26, 2015 at 7:48 am

মোগল আমলে হজের ইতিহাস


Download PDF

মোগল আমলে হজ

ভূপালের সিকান্দার বেগম (মাঝখানে)

মক্কার প্রবেশমুখ হিসেবে লোহিত সাগর তীরের জেদ্দা বন্দর সুখ্যাত বহুকাল ধরে। এখানে ভারতীয় বণিকদের চলাচলের ইতিহাসও সুদীর্ঘ। বণিকরা মসলা, মুক্তা, মূল্যবান পাথর, রেশম, চন্দন কাঠ ও সুগন্ধি বোঝাই জাহাজ ভেড়াত এই বন্দরে। ধারণা করা চলে, ভারতীয়দের হজ করতে জেদ্দায় পদাপর্ণের ইতিহাস শুরু হয় সিন্ধু বিজয়কালে (৬৬৪ থেকে ৭১২)। মোগল আমল থেকে অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত ভারতের মানুষের হজে যাওয়ার রাস্তা ছিল দুটি। স্থলপথে উত্তর-পশ্চিম ভারত অতিক্রম করে পাকিস্তান-আফগানিস্তান-ইরান ও ইরাক হয়ে সৌদি আরব। এটি ছিল খুব কষ্টকর এবং বিপৎসংকুল। সাফায়িদ শিয়া জনগোষ্ঠী কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটত হামেশাই। তাই লোহিত সাগর হয়ে জলপথে হজ করা ছিল বেশি জনপ্রিয়। তবে এ পথেও বিপদ ছিল। ষোলো শতকের লোহিত সাগর পর্তুগিজ নিয়ন্ত্রণে ছিল। কার্তাজ নামে তাদের একটি পাস সংগ্রহ করতে হতো হাজি ও বণিকদের। এটি একসময় এত জটিল হয়ে উঠেছিল যে মোগল সম্রাটের ওলামারা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, এ পর্যায়ে হজের বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে সুদিনে মোগল শাসকরা হজযাত্রীদের জন্য সুব্যবস্থা করতেন। তাঁরা কয়েকটি জাহাজ মিলিয়ে একটি নৌবহর তৈরি করতেন। যাত্রীদের যাওয়া-থাকা ও খাওয়ার বন্দোবস্ত করতেন। অটোমান খলিফারাও সিরিয়া ও মিসর থেকে হজযাত্রীদের পথে নিরাপত্তা বিধান করতেন। খলিফাদের বলা হতো পবিত্র ভূমি তত্ত্বাবধানকারী। গুজরাটের সুরাটকে সেকালে বলা হতো বাব-আল মক্কা বা বন্দরে মোবারক। ভারতীয় হজযাত্রীদের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। সম্রাট আকবরই ছিলেন প্রথম মোগল শাসক, যিনি সরকারি খরচে কিংবা ভর্তুকি দিয়ে হজযাত্রার ব্যবস্থা করতেন। তিনি হাজিদের জন্য মক্কায় একটি সেবাদানকেন্দ্রও নির্মাণ করেছিলেন। ১৫৭৫ সালে পর্তুগিজদের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পর থেকে আকবর প্রতিবছর একটি হজ নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিলেন। তিনি একজন সিনিয়র সভাসদকে মির হাজি (হজযাত্রীদের নেতা) নিযুক্ত করলেন। তাঁর নাম ছিল আবদুর রহিম খানে খানা। রহিমি, করিমি ও সালারি নামে তাঁর নিজেরই তিনটি জাহাজ ছিল। তখনকার একজন পরিব্রাজক জন ফ্রেয়ার কিয়ানি ওরফে হাজি মোহাম্মদ আমিন জানাচ্ছেন, জাহাজগুলোর ওজন ছিল ১৪০০ থেকে ১৬০০ টন এবং যাত্রী পরিবহন করতে পারত সতেরো শর মতো। সম্রাট জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের আমলেও এ ধারা অব্যাহত থাকে। শাহজাহানের আমলেও একজন মির হাজি নিযুক্ত হয়েছিলেন। জাহাঙ্গীরের সময় হজযাত্রা নিয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে, যার ফলাফল বিস্তৃত পলাশীর যুদ্ধ পর্যন্ত। ১৬১৩ সালে রহিমি জাহাজটি (যার মালিক ছিলেন মরিয়ম-উজ-জামানি ওরফে যোধা বাই, জাহাঙ্গীরের মাতা) কার্তাজ নেওয়া সত্ত্বেও পর্তুগিজদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। ইউরোপের লোকজনও জানত যে রহিমি তীর্থযাত্রায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ। জাহাজটি আক্রান্ত হওয়ায় মোগল সম্রাট খুব অসম্মান বোধ করেন। ‘শত্রুর শত্রু মিত্র’ এই তত্ত্ব অনুসারে জাহাঙ্গীর ব্রিটিশদের প্রতি নরম হন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানিকে ভারতে ব্যবসা করার অনুমতি দেন। সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে প্রতিবছর দুটি রাজকীয় জাহাজ লোহিত সাগর পাড়ি দিত। ট্যাভার্নিয়ার দেখেছেন, এসব জাহাজে যাত্রীদের কোনো খরচ বইতে হতো না। মোগল হারেমের রমণীরা এসব জাহাজের যাত্রী হতেন। আওরঙ্গজেবের কন্যা জেবুন্নেসাও হজযাত্রীদের সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। সফি বিন ওয়ালি আল কাজভিনি নামের একজন পণ্ডিতকে তিনি হজ করিয়ে এনেছিলেন কোরআনের তাফসির করার পুরস্কার হিসেবে। জানা যায়, সফি সাহেব সালামাত রাস নামের জাহাজে করে রওনা দিয়েছিলেন ১৫ শাওয়াল ১০৮৭ (১৬৭৬ খ্রি.)। কাজভিনি তাঁর যাত্রাপথের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে একটি বই লিখেছিলেন, যার নাম আনিস আল হজ। বইটি মুম্বাইয়ের প্রিন্স অব ওয়েলস জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। মোগল শাসকরা ষড়যন্ত্রকারীকেও হজে পাঠাতেন। এমনকি কাউকে নির্বাসন দিতে চাইলেও হজে পাঠিয়ে দিতেন। আকবর যেমন বৈরাম খানকে পাঠিয়েছিলেন। কারণ বৈরাম খানের মাতব্বরি তাঁর কাছে তখন অসহ্য ঠেকছিল। সেটি ১৫৫৩ সাল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বৈরাম খান সুরাট যাওয়ার পথে আহমেদাবাদে একজন আফগান কর্তৃক নিহত হন। জাহাঙ্গীর ভুল চিকিৎসার জন্য তাঁর পারসিয়ান হেকিম সাদরাকে মক্কায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। আওরঙ্গজেবও তাঁর একজন কাজিকে বিরক্ত হয়ে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন এবং হজে পাঠিয়েছিলেন।

উল্লেখ করার মতো ব্যাপার, ১৫৭৬ থেকে ১৫৮২ সাল-প্রতিবছর সম্রাট আকবরের মির হজ ছয় লাখ রুপি মক্কা ও মদিনায় খরচ করতেন, সেই সঙ্গে খিলাতও (আলখাল্লা) বিতরণ করতেন। আর মক্কার শেরিফের জন্য মূল্যবান উপহার নিয়ে যেতেন। ১৬৫৯ সালে আওরঙ্গজেব শেরিফের জন্য সাড়ে ছয় লাখ রুপি মূল্যমানের উপহার পাঠিয়েছিলেন।

আরেকটা মজার ব্যাপার, মোগল বাদশাহরা হাজার হাজার লোককে হজ করতে পাঠালেও নিজেরা কখনো হজে যেতেন না। এমনকি পরবর্তী সময়ের গুজরাট, বিজাপুর, বেঙ্গল বা হায়দরাবাদের নিজামরাও হজ করেননি। তবে খুব সম্ভ্রান্ত মহিলাদের মধ্যে আকবরের ফুপু মানে বাবরের কন্যা গুলবদনের নাম পাওয়া যায়। তিনি হজ করেছিলেন ১৫৭৬ সালে। আর সম্রাজ্ঞী হিসেবে প্রথম হাজি খেতাব পেয়েছেন ভূপালের সিকান্দার বেগম। ১৮৬৩ সালে। তিনি ১৫০০ সঙ্গী-সাথি নিয়ে পুরো একটি জাহাজ রিজার্ভ করেন। সঙ্গীদের অন্যতম ছিলেন তাঁর মা কুদসিয়া বেগম। বলা হয়, তিনি পুরো পথ পয়সা বিলিয়েছেন। মক্কায় পৌঁছার পর তাঁদের জন্য শেরিফের পক্ষ থেকে ৫০ রকমের রাজকীয় খাবার পাঠানো হয়েছিল। ১৮৮৫ সালে ব্রিটিশ সরকারের নির্ধারিত হজ এজেন্সি ছিল টমাস কুক অ্যান্ড সন্স। টমাস কুক এজেন্সি রেলপথ, নৌপথ, পাসপোর্ট, টিকিটিং, চিকিৎসা ইত্যাদি সব কিছুর দায়িত্ব পেয়েছিল। ১৯২৭ সালে বম্বের পুলিশ কমিশনার ডি. হিলির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি হজ কমিটি গঠিত হয়েছিল। ১৯৫৯ পর্যন্ত এ রকম কমিটি কার্যকর ছিল। ১৯৫৯ সালে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ১০ রুপি ও ১০০ রুপির বিশেষ হজ নোট চালু করে। এগুলোর নম্বর শুরু হতো এইচএ দিয়ে। ১৯৫০ সালে পাকিস্তানও হজ নোটের প্রচলন ঘটিয়েছিল। এক হিসাবে দেখা যায়, মগুল লাইন শিপস ১৯২৭ সালে ২০ হাজার হজযাত্রী মক্কায় নিয়ে গেছে।

লেখক : ইয়েমেনে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত

অনুবাদ : সালেহ শফিক (অভিযোজিত এবং সংক্ষেপিত)

– See more at:

         


বাংলাদেশ সময়: December 26, 2015 at 7:48 am

সৌদি-আরব-সংবাদ-এর সর্বশেষ ২৪ খবর

Line
 
Must See Places In Paris
Free track counters
Thanks Dear Visitor
Hajjsangbad.com