Date and Time June 25, 2017 1:09 am   বাংলাদেশ সময়
For showing Bangla
bd24live.com logo
Latest News

হাবের দুর্নীতি: শুধু স্বাক্ষরের দাম পৌনে ৩ কোটি টাকা!

Fiji Visa exempted for Bangladeshi

»
February 10, 2016 at 8:45 am

হজে ওমরা পালন প্রস্তুতি


Download PDF

হজে  ওমরা পালন প্রস্তুতি


 

হজের প্রস্তুতিই ওমরা পালন

হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। বাংলাদেশ থেকে  হজ পালনের উদ্দেশ্যে গত ১৬ আগস্ট থেকে হাজিরা  যাত্রা শুরু করেছেন। আথির্ক এবং শারীরিক ইবাদত হচ্ছে হজ। যা সবদিক থেকে কষ্টকর। অর্থ খরচ করা যেমন কষ্টের তেমনি শারীরিকভাবেও অনেক কষ্টকর হজ পালন করা। তাই কষ্টের হজে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, এবং হজ যেন আল্লাহ তাআলা কবুল করেন, সে ব্যাপারে সব মুসলিম উম্মাহর লক্ষ্য রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হজসংবাদ.কমের পাঠকদের জন্য হজ কবুলের কতিপয় দিক তুলে ধরা হলো-

উমরার করার নিয়ম-
যদিও হজ পালনে ইচ্ছুক মুসলমানগণ মক্কা ও মদিনায় যাওয়া শুরু করেছেন। এখন সেখানে তাঁরা হজের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে ওমরা পালন করবেন। মক্কা ও মদিনার দর্শণীয় স্থানসমুহ দেখবেন। পাশাপাশি দুআ` কবুলের স্থান সমূহ জিয়ারত করাসহ আল্লাহর দরবারে নিজেদের দেহ ও মনকে সমর্পিত করবেন। আসুন ওমরা পালনের বিষয়গুলো আমরা জেনে নিই-

১. ইহরাম বাঁধা :
ওমরা পালনকারীগণ মিকাতে পৌঁছে অথবা তার পূর্ব হতে গোসল বা ওযু করে (পুরুষগণ ইহরামের কাপড় পরে) দুই রাকাআত নামাজ পড়ে কেবলামুখী হয়ে ওমরার নিয়ত করবে। নিয়ত শেষে চার নিঃশ্বাসে  তিন বার  তালবিয়াহ পাঠ করবে। (পুরুষগণ উচ্চস্বরে আর মহিলাগণ নিরবে) স্মরণ রাখতে হবে যে, ইহরাম বাঁধা ফরজ।
তালবিয়া এই-
ক. لَبَّيْكَ ا للّهُمَّ لَبَّيْكَ
খ. لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ
গ. اِنَّ الْحَمدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ
ঘ. لاَ شَرِيْكَ لَكَ
নিয়ত ও তালবিয়ার দ্বারা ইহরাম বাঁধা হয়ে গেল। এখন বেশী বেশী এ তালবিয়াহ পড়তে থাকবে এবং ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজসমূহ থেকে বিরত থাকবে।

২. তাওয়াফ করা :
মসজিদুল হারামে তাওয়াফের স্থানে প্রবেশ করে তালবিয়া বন্ধ করে তাওয়াফের নিয়্যত ও প্রস্তুতি নিতে হবে। হাজরে আসওয়াদ বরাবর দাগের বাঁয়ে দাঁড়িয়ে প্রথমে উমরার তাওয়াফের নিয়ত করা। তারপর দাগের উপর এসে হাজরে আসওয়াদকে সামনে করে তাকবিরে তাহরিমার মত (নামাজের নিয়্যত বাঁধার সময় যেভাবে হাত তুলি) হাত তুলবে এবং তাকবির বলবে। অতঃপর হাত ছেড়ে দিবে। এরপর হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করবে (সম্ভব হলে) অথবা ইশারার মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করবে। অতঃপর কা`বার চতুর্দিক তাওয়াফ করে যেখান থেকে শুরু করেছিলে সেখানে এসে এক তাওয়াফ শেষ হবে। এভাবে ৭ বার তাওয়াফ করবে। এবং প্রত্যেক তাওয়াফ বা চক্কর শেষে হাজরে আসওয়াদকে ইশারার মাধ্যমে চুম্বন করবে।

তাওয়াফ শেষে সম্ভব হলে কাউকে কষ্ট না দিয়ে মুলতাযামে হাযিরী দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ` করবে, তারপর মাতাফের কিনারায় গিয়ে মাকামে ইবরাহিমকে সামনে রেখে বা মাকামে ইবরাহিমের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যেখানে সহজ হয় ওয়াজিবুত তাওয়াফ দুই  রাকাআত নামায আদায় করবে। এরপর ইচ্ছামত জমজমের পানি পান করবে। স্মরণ রাখবে এই জমজমের পানির অনেক পুষ্টি গুণ রয়েছে। যা পানে ওমরার যাবতীয় কষ্ট আল্লাহ লাগব করে দিবেন। শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে দিবেন। স্মরণ রাখতে হবে যে, তাওয়াফ করা ফরজ।

৩. সাঈ করা :
সাফা-মারওয়ায় সাঈ করার উদ্দেশ্যে হাজরে আসওয়াদকে ইশারার মাধ্যমে চু্ম্বন করে সাফা পাহাড়ের দরজা দিয়ে সাফা পাহাড়ে কিছুটা ওপরে চড়বে এবং বাইতুল্লাহ মুখী হয়ে দু’আ করে সাফা পাহাড় থেকে মারওয়া পাহাড়ের দিকে চলবে। মারওয়াতে পৌছলে একবার সওত হয়ে গেল। মারওয়া পাহাড়ের কিছুটা ওপরে চড়ে বাইতুল্লাহ মুখী হয়ে দু’আ করে সাফার দিকে চলবে। প্রত্যেক বারই সাফা ও মারওয়াতে বাইতুল্লাহ মুখী হয়ে দু’আ করবে। এভাবে সাত সওত অর্থাৎ, ৭ বার সাঈ সম্পন্ন করবে।

লক্ষ্যণীয় বিষয়-
সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝ বরাবর একটা জায়গায় সবুজ বাতি প্রজ্বলিত থাকে এ স্থানে সক্ষম মানুষগণ দ্রুত পায়ে চলবে। সাত সাঈ সম্পন্নের পর ২ রাকাআত নফল নামাজ আদায় করবে। সাফা ও মারওয়ায় সাঈ করা ওয়াজিব।

সাফা পাহাড়ে দোয়া করা। হজরত  জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাফা পাহাড়ের একেবারে শীর্ষে উঠেছেন যাতে কাবাকে দেখতে পান। এরপর কিবলামুখি হন এবং আল্লাহর একত্ববাদ ও মহত্বের ঘোষণা দিয়ে বলেন:

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ.

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ। লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদা, আনজাযা ওয়া’দাহ, ওয়া নাসারা আ’বদাহ, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদা।

অর্থ- “নেই কোন উপাস্য এক আল্লাহ ব্যতিত। তাঁর শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর জন্য। প্রশংসা তাঁর জন্য। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। নেই কোন উপাস্য এক আল্লাহ ব্যতিত। তিনি প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন। তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সব দলকে পরাজিত করেছেন। এরপর তিনি দোয়া করেন। এভাবে তিনবার বলেছেন।” এরপর তিনি মারওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এবং যখন তিনি বাতনে ওয়াদি (সবুজ বাতি প্রজ্জলিত স্থান)  পৌঁছেন তখন তীব্রভাবে দৌঁড় দেন। এভাবে মারওয়াতে পৌঁছান এবং সাফার উপরে যা যা করেছেন মারওয়ার উপরেও তা তা করেন। (মুসলিম)

৪. হালাল হওয়া :
সাঈ সম্পন্ন হওয়ার পর মাথা মুণ্ডিয়ে অথবা চুল ছোট করে হালাল তথা ইহরাম থেকে বরে হতে হবে।

উপরোল্লিখিত কার্যক্রম পালনের মাধ্যমেই এক ওমরা পালন সম্পন্ন হয়। আল্লাহ তাআলা মুসলিম মিল্লাতকে সঠিক উপায়ে সুন্দরভাবে ওমরা পালনের তাওফিক দান করুন। সব মুসলিমকে হজ ও ওমরা পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

হজসংবাদ.কমের সঙ্গে থাকুন। ওমরা ও হজের ধারাবাহিক আলোচনা পড়ুন। কুরআন-হাদিস মোতাবেক আমলি জিন্দেগি যাপন করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করুন। আমিন, ছুম্মা আমিন

         


বাংলাদেশ সময়: February 10, 2016 at 8:45 am

হজ্জ-উমরাহ গাইড-এর সর্বশেষ ২৪ খবর

Line
 
Must See Places In Paris
Free track counters
Thanks Dear Visitor
Hajjsangbad.com